- আজ শনিবার
- ২২শে চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
- ৫ই এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
- ৪ঠা শাওয়াল ১৪৪৬ হিজরি
গাজীপুর টিভি ডেস্ক | ০১ মার্চ ২০২৫ | ১:২০ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে ওভাল অফিসের বৈঠকে সংবাদ মাধ্যমের সামনেই বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এরপর জেলেনস্কিকে হোয়াইট হাউজ থেকে চলে যেতে বলা হয় এবং পূর্ব নির্ধারিত যৌথ সংবাদ সম্মেলন বাতিলও করা হয়।
এদিকে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের পর রাশিয়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটি বলেছে, ইউক্রেনীয় নেতা যা প্রাপ্য তা পেয়েছেন।
তীব্র চিৎকার-চেঁচামেচি মস্কোর জন্য একটি উপহার। জেলেনস্কিকে অসম্মানিত করার ও তার বৈধতা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, ‘জেলেনস্কি কঠোর চড় খেয়েছেন’।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ‘এটি একটি অলৌকিক ঘটনা যে, ট্রাম্প এবং ভ্যান্স বিতর্কের সময় জেলেনস্কিকে আঘাত করা থেকে নিজেদের বিরত রেখেছিলেন। এ বিশ্বজুড়ে সংবাদ চ্যানেলে সম্প্রচারিত হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘জেলেনস্কি তাকে খাওয়ানোর হাতটি কামড়ে ধরে ছিলেন।’ জাখারোভা ইউক্রেনীয় নেতার সঙ্গে ‘সংযম’ দেখানোর জন্য ট্রাম্পের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমি মনে করি জেলেনস্কির সকল মিথ্যার মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যা বলেছে। সেটা হলো, হোয়াইট হাউসে তার দাবি, ২০২২ সালে কিয়েভ সরকার একা ছিল এবং তার কোনো সমর্থক ছিল না।’
এদিকে কট্টর জাতীয়তাবাদী টিভি ভাষ্যকার ভ্লাদিমির সলোভিভ ‘হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির আত্মহত্যা’ নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের ঘোষণা করেছেন।
দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, ‘প্রথমবারের মতো, ট্রাম্প কোকেন ধান্দাবাজকে তার মুখের সামনে সত্যটি বলছেন, কিয়েভ সরকার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে খেলছে। অকৃতজ্ঞ শূকরটি, শূকরের খোঁয়ার মালিকদের কাছ থেকে থাপ্পড় খেয়েছে। তবে এটি যথেষ্ট নয় – আমাদের নাৎসি মেশিনকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করতে হবে।’
এদিকে ট্রাম্প কথা কাটাকাটির সময় জেলেনস্কি কৃতজ্ঞ ছিলেন এবং একইসঙ্গে তিনি ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে জুয়া খেলছেন’ বলে অভিযোগ করেন।
তবে জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কোনো আপস করবেন না। ওদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে তার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন। তিনি ইউক্রেনের প্রতি তার নিঃশর্ত সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
জেলেনস্কির এবারের ওয়াশিংটন সফরে ইউক্রেনের বিরল খনিজ সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওভাল অফিসের বৈঠকটি বাগযুদ্ধে পরিণত হয়, যার একদিকে ছিলেন জেলেনস্কি আর অন্যদিকে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্স। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের আশা ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করে হোয়াইট হাউজ ছাড়বেন। এর মধ্যে খনিজ চুক্তিতে সই করবেন যা তার দেশের ভবিষ্যতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি অংশীদারিত্ব দেবে এবং তিনি তার দেশের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাইবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য আরো বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য তাকে চাপ দেয়ার পর বিশ্ব গণমাধ্যমের সামনেই নজিরবিহীন এক পরিস্থিতিতে পড়লেন জেলেনস্কি। ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর শক্তিশালী সহযোগীর চাপ সত্ত্বেও পিছিয়ে গেলেন জেলেনস্কি। ফলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলো, বৈঠকে তিনি ‘অসম্মানজনক’ আচরণ করেছেন। এই ঘটনার পর ট্রাম্প ও তার যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আগেই তাকে হোয়াইট হাউজ ছাড়তে বলা হয়। শেষ পর্যন্ত খনিজ চুক্তিও আর হলো না।
ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথে লিখেছেন, ‘যখন শান্তির জন্য প্রস্তুত হবেন, তখন ফিরে আসবেন। জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র ও ওভাল অফিসকে অপমান করেছেন বলেও লিখেছেন ট্রাম্প।
জেলেনস্কিও এই ঘটনা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটি প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান সেখানে। পরে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার তিনি বলেন, প্রকাশ্যে যে বাদানুবাদ হলো সেটা ঠিক ছিল না, তবে ট্রাম্প ও তার সম্পর্কের পুনরুদ্ধার সম্ভব। তিনি বলেন, ‘কারণ এই সম্পর্ক শুধু দুই জন প্রেসিডেন্টের মধ্যকার সম্পর্কের চেয়েও বেশিকিছু। আমাদের দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ও আছে এখানে।’
সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা
শনি | রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র |
---|---|---|---|---|---|---|
১ | ২ | ৩ | ৪ | |||
৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ |
১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ |
১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ |
২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ |