- আজ শনিবার
- ১৫ই চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
- ২৯শে মার্চ ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
- ২৬শে রমজান ১৪৪৬ হিজরি
গাজীপুর টিভি ডেস্ক | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
গাজীপুরের শ্রীপুরের বাঁশবাড়ি গ্রামে চোর সন্দেহে ঘুম থেকে তুলে যুবককে পেটানোর পর মৃত্যুর ঘটনায় বিএনপি নেতাসহ ৭ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল।
তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে নিহত যুবকের বাবা মো: নাছির বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলার আবেদন করেন। মামলায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ১০/১২জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় শৈলাট মেডিক্যাল মোড়ের গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে কামরুল হাসান লিটন (৫০), একই গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে বাবুল মন্ডল (৪৫), মৃত টেপপাঞ্জু’র ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩২), মৃত তাজুম আলীর ছেলে মো: জলিল (৬৫), তার ছেলে সোহাগ (৪০), মৃত মগার ছেলে ইউসুফ (৪০), মৃত সুমেস’র ছেলে ছাত্তার (৫৫)সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কামরুল হাসান লিটন উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
নিহতের বাবা নাসির উদ্দিন বলেন, বসত ঘরে ঘুমিয়ে থাকা আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে শৈলাট পশ্চিম পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে আমার ছেলেকে কয়েক ঘন্টা পেটায়। পেটানোতেও ক্ষান্ত্র হয়নি তারা, এক পর্যায়ে চায়ের দোকান থেকে গরম পানি নিয়ে আমার ছেলেও ছেলের ওপর ঢেলে দেয়। এতে কোমড়ের নিচ থেকে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফুসকা পড়ে যায়। এসময় আমার ছেলে পানি পান করতে চেয়েছিল, তার জীবনটা ভিক্ষা চেয়েছিল, কিন্তু জীবন ভিক্ষা তো দুরের কথা তারা পানি পর্যন্ত খেতে দেয়নি। আমরা এত চেষ্টা করেছি তবুও নির্যাতনকারীদের মন গলাতে পারিনি। আমাদের দেখলে নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিতো।
নিহতের শতবর্ষী দাদী মহর জান অভিযোগ করে বলেন, আমার নাতীকে বাড়ি থেকে স্কুল মাঠে ডেকে নিয়ে সকাল ৮ থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৪ ঘন্টা ধরে নির্যাতন করে। আমি কত বার যাওয়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু ওরা (নির্যাতনকারীরা) আমাকে বারবারই ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছে।
নিহত ইসরাফিলের চাচা আব্দুর রহিম অভিযোগ করেন, মারধরের পর একটি ভ্যানে তুলে ইসরাফিলকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় থাকার তিনদিন পর আমার ভাতিজাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে গত ১৬ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন চিকিৎসকরা। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইসরাফিল মারা যান।
মারা যাওয়ার পরপরই অভিযুক্তরা এলাকায় গা ঢাকা দিয়েছে। কামরুল হাসান লিটনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে গাজীপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ইসরাফিলের উপর চালানো নির্যাতন সম্পর্কে এলাকাবাসীর কাছ থেকে জেনেছি। নির্যাতনের শিকার ইসরাফিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার মারা গেছে। তবে এ ঘটনায় কামরুল হাসান লিটন আমাকে কিছুই জানায়নি।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোস্তাক আহমেদ জানান, ইসরাফিল নামে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। স্বজনদের আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত করা হবে।