- আজ রবিবার
- ১৬ই চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
- ৩০শে মার্চ ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
- ২৭শে রমজান ১৪৪৬ হিজরি
গাজীপুর টিভি ডেস্ক | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ২:৪৯ অপরাহ্ণ
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার একটি বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিতে জাহাঙ্গীর আলম পিন্টু নামে এক যুবদল নেতা অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী নিয়ে দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে মিছিল ও মহড়া দিয়েছেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার বিকেলে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি শ্রীপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে তাকে সাংগঠনিক সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জানা যায়, শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এমসিবাজার এলাকায় মিছিল করে। সন্ত্রাসীদের প্রত্যেকের মাথা-মুখ লাল গামছা দিয়ে ঢাকা ছিল। তাদের হাতে ছিল দেশীয় অস্ত্র।
মিছিলের পর এমসিবাজার ‘স্বপ্নপুরী’ হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে হ্যান্ডমাইকে বাজার নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আজকে আমার সব সক্ষমতা নিয়ে বাজারে এসেছি।
আজকের পর থেকে এই বাজারের সব কন্ট্রোল করব আমি। কে ডাকবে আর কে না ডাকবে সেটা আমার জানার বিষয় নয়। আমার নেতৃত্বে এই বাজার চলবে। আজকের পর থেকে আমি জাহাঙ্গীর যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন পর্যন্ত এ বাজার আমার নেতৃত্বে চলবে।’
বাজারের মুদি দোকানদার সুরুজ আলী জানান, ওই ঘোষণার পর বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে দা উঁচিয়ে তার কাছে যান সন্ত্রাসীরা। তার কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়েছেন। এরপর বাজারের অন্য দোকানদাররাও ১০০ কিংবা ২০০ টাকা করে দেন সন্ত্রাসীদের।
বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বড় বড় দাও লইয়া আইছে। লাল গামছা দেয়া (দিয়ে) সবার মুখ বান্ধা (বাঁধা)। ডরে ১০০ টেহা দেয়া দিছি। সব দোহানতেই নিছে।’ ব্যবসায়ীরা জানান, তারা যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর ছাড়া কাউকে চিনতে পারেননি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমকে ফোন দেওয়া হলে রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘ভাইয়ের (জাহাঙ্গীর) নম্বর আমি চালাই। ভাইকে আরেক নম্বরে পাবেন।’ পরে রফিকুল ইসলামের দেওয়া আরেক নম্বরে ফোন দিয়ে তা বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানা যায়নি।
গাজীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখেছি। ওই ঘটনার আধা ঘণ্টার মধ্যে জাহাঙ্গীর আলমকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল কুদ্দুস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছার আগেই ওরা (সন্ত্রাসীরা) চলে গেছে। বাজারে আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঘটনা ছিল এটি। একপক্ষ মিছিল করেছে। আরেক পক্ষ ধাওয়া দিলে ওরা চলে যায়।’
তবে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়াসহ দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে এসআই কুদ্দুস বলেন, ‘না, এমন কিছু হয়নি।’